প্রবাস

অস্ট্রেলিয়ায় কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন চার বাংলাদেশি বন্ধু

নিউজ ডেস্কঃ অস্ট্রেলিয়ায় চার বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক মানের কলেজ। বাংলাদেশি তো বটেই, অন্য দেশের শিক্ষার্থীরাও এ কলেজে পড়ছেন। এখান থেকে দুই বছরের কোর্স করে কেউ কেউ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হয়েছেন, কেউ–বা আছেন স্থায়ী হওয়ার পথে।

কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এ এন এম খায়রুল আনোয়ার বলছিলেন, বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে একটা বড় অংশই অদক্ষ শ্রমিক। স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন কমই। বেশির ভাগই ভিসা নিয়ে কাজ করে দেশে ফিরে আসছেন। আবার যাচ্ছেন। মাস শেষে তাঁরা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) পাঠাচ্ছেন। এতে দেশে তাঁদের পরিবার ভালো থাকছেন। পাশাপাশি সচল থাকছে দেশের অর্থনীতি। আম’দানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁদের পাঠানো ডলার।

কিন্তু একটা বিষয় এ এন এম খায়রুল আনোয়ারকে সব সময় পীড়া দিত। দেখতেন, দক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে যে জায়গাটা ইতিমধ্যে ভা’রতীয়রা নিয়ে ফেলেছে, সেখানে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশি শ্রমিক মাসে তিন হাজার ডলার আয় করছেন, তাঁর পক্ষে অনায়াসে এর দ্বিগুণ–তিন গুণ আয় করা সম্ভব, দরকার শুধু একটু শিক্ষা। নির্দিষ্ট করে বললে, কারিগরি শিক্ষা।

কী’ করা যায়, এই নিয়ে দিনের পর দিন বৈঠক করলেন চার বন্ধু এ এন এম খায়রুল আনোয়ার, এ এইচ এম জি কিবরিয়া, ইম’রান হোসেন ও মেসবাহ উদ্দিন খান। ভাবতে ভাবতে ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করলেন একটা কলেজ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরে অবস্থিত এ কলেজের নাম ‘সাউথ সিডনি কলেজ’। অস্ট্রেলিয়া সরকার অনুমোদিত কলেজটি মূলত বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। গত ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় উদ্যোক্তাদের সম্মেলনে কলেজটি ‘প্রগ্রেসিভ এডুকেশন ইনস্টিটিউট অব দ্য ইয়ার’ পদক পেয়েছে। মেলবোর্নের ক্রাউন সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার শতাধিক উদ্যোক্তা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র সিডনি শহর থেকে ট্রেনে মাত্র ১২ মিনিটের দূরত্বে এ কলেজের অবস্থান। বাংলাদেশিদের কথা মা’থায় রেখে প্রতিষ্ঠা করা হলেও এটি আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। এ এন এম খায়রুল আনোয়ারের পাশাপাশি এটি পরিচালনা করছেন এ এইচ এম জি কিবরিয়া, ইম’রান হোসেন ও মেসবাহ উদ্দিন খান। বয়সের ব্যবধান থাকলেও চারজন মূলত বন্ধু। অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন এ এইচ এম জি কিবরিয়া। আর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন এ এন এম খায়রুল আনোয়ার।

কী’ শেখানো হচ্ছে

কলেজের পর্ষদ চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটর মেকানিক, অটোমোটিভ, সাইবার সিকিউরিটি, কাঠের কাজ, কমিউনিটি সার্ভিস, পর্যটন—এ রকম নানা বিষয়ে ১৩টি কোর্স পরিচালনা করে আসছে সাউথ সিডনি কলেজ। অস্ট্রেলিয়ার টরেন্স ইউনিভা’র্সিটি, ইউনিভা’র্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ড ও গ্রিফিথ ইউনিভা’র্সিটির সঙ্গে যু’ক্ত হয়ে পরিচালিত হচ্ছে কোর্সগুলো। আর বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ১৫টি দেশ থেকে এ কলেজ শিক্ষার্থী পেয়েছে। বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় কলেজে পড়ছেন, পাশাপাশি কাজও করছেন।

জন্মলগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের আপন করে নিচ্ছে সাউথ সিডনি কলেজ জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ এ এইচ এম জি কিবরিয়া। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি জানালেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সময়ের সঙ্গে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন ও প্রয়োগকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শেষে কাজের সন্ধান দেওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

কিবরিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা ও অন্যান্য পেশাগত কর্মকা’ণ্ড অব্যাহত রাখছে সাউথ সিডনি কলেজ। আর এর মধ্য দিয়ে দেশে–বিদেশে মানুষের মনোযোগ ও প্রশংসা পেয়ে আসছে। প্রতিবছর কলেজের মান মূল্যায়ন করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। কলেজ ঠিকমতো চলছে কি না, মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে কি না, এ মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমাদের কলেজ ভালো মান পাচ্ছে।’

অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন এ কলেজে। করো’নার কারণে একটু ব্যাহত হলেও এখন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবার বাড়ছে। গত মাসেই ভর্তি হয়েছেন সাতজন।

কারা ভর্তি হতে পারবেন

সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন কলেজের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এ এন এম খায়রুল আনোয়ার। তাঁর সঙ্গে কথা হয় গত ২০ নভেম্বর। বললেন, একটা শ্রেণি আছে, যাঁরা বিদেশে কাজ করতে যান, কিন্তু যোগ্যতার অভাবে বৈধভাবে থেকে যাওয়ার চিন্তা করতে পারেন না। এ কলেজ থেকে পাস করে কেউ ভালো চাকরি তো করতে পারবেনই, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের চিন্তাও করতে পারবেন।

উচ্চ’মাধ্যমিক পাস করেই সাউথ সিডনি কলেজে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ভর্তির জন্য আইইএলটিএস স্কোর ৫ থাকতে হয়। এ স্কোর বেশি হলে আরও ভালো। তবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে চান, এমন শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত করে সাউথ সিডনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভর্তি হওয়ার পর খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তাতেই থাকা-খাওয়ার খরচ চলে যায়। দুই বছরের কোর্সে ভর্তি হতে খরচ হবে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

খায়রুল আনোয়ার বলেন, ‘আম’রা চাই, যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশিদের অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস বাড়ুক। সে বিবেচনা থেকেই কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আম’রা আরও বেশি বাংলাদেশির সাফল্য দেখতে চাই।’

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!